স্বাধীন দেশ অনলাইন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:১৭
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওনালা গাজী আতাউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মূলত আদর্শিক বিচ্যুতি ও কূটনৈতিক কৌশলের ৪টি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরেন, যার প্রেক্ষিতে দলটি ২৬৮টি আসনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ: কেন এই বিচ্ছেদ?
১. শরিয়া আইন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় দেশ চালাবেন। ইসলামী আন্দোলনের মতে, এটি তাদের মূল আদর্শ ‘আল্লাহর আইন’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি।
২. বিএনপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের শঙ্কা: জামায়াত আমির শরিকদের সাথে আলোচনা না করেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সমঝোতার কথা বলেছেন। এতে ইসলামী আন্দোলন মনে করছে, এটি একটি ‘পাঁতানো নির্বাচন’ হতে পারে।
৩. আসন বণ্টনে অবজ্ঞা: প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলন ১৫০টি আসন চেয়েছিল, যা পরে তারা কমিয়ে আনে। কিন্তু জামায়াত তাদের মাত্র ৪০টি আসন ছাড় দিতে চেয়েছিল, যা ইসলামী আন্দোলন ‘অসম্মানজনক’ ও ‘ইনসাফের পরিপন্থী’ বলে মনে করছে।
৪. একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত: জোটের শরিক হিসেবে সমান মর্যাদা না দিয়ে জামায়াত একতরফাভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং এবি পার্টির মতো দলগুলোর সাথে আলোচনা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে চরমোনাই পীরের দল।
নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব: কার অবস্থান কী?
ইসলামী আন্দোলনের এই প্রস্থানে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী মাঠের লড়াইয়ে নিচের পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা (জানুয়ারি ২০২৬) |
| ইসলামী আন্দোলন | ২৬৮টি আসনে এককভাবে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে লড়াই করবে। তারা কোনো প্রার্থী প্রত্যাহার করবে না। |
| জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট | জামায়াতসহ বাকি ১০টি দল ২৫৩টি আসনে সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। |
| ভোটের বিভাজন | ইসলামপন্থি জনমতের ভোটগুলো এখন ‘হাতপাখা’ এবং জোটের প্রতীকের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। |
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া:
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, তারা কাউকে চাপ প্রয়োগ করেননি এবং আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের কঠোর অবস্থানে সমঝোতার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ।

0 Comments