স্বাধীন দেশ অনলাইন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩২
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ফুটবলের পরম আরাধ্য সেই স্বর্ণালি ট্রফি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটি বরণ করে নেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও উদীয়মান তারকা শেখ মোরসালিন। ট্রফির সাথে বাংলাদেশে এসেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা।
ফিফা সভাপতির আশাবাদ:
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:
* প্রথমবারের মতো সুযোগ: ফিফার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও অন্যান্য ছোট দেশগুলো যেন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়।
* নতুন মুখ: ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তান, জর্ডান, কেপ ভার্দ ও কুরাসাও-এর মতো নতুন দেশগুলো সুযোগ পেয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
* বিপুল সম্ভাবনা: ইনফান্তিনো বাংলাদেশকে একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ফিফা এখানকার ফুটবলের উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করছে এবং অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন হাওয়া: হামজা ও শমিতের প্রভাব
বিশ্বকাপের মূল লড়াই এখনো বাংলাদেশের জন্য অনেক দূরের পথ হলেও, বর্তমান দলে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
* হামজা চৌধুরী: প্রিমিয়ার লিগের দল লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে ফিফা থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বর্তমানে জাতীয় দলের অন্যতম মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
* শমিত সোম: কানাডাপ্রবাসী এই ফুটবলারও বর্তমানে দলের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
* সাফল্য: হামজা ও শমিতদের উপস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘ ২২ বছর পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারানোর স্বাদ পেয়েছে, যা সাউথ এশিয়ান ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
স্মৃতিচারণ:
ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে একবারই এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলেছিল। তবে বর্তমান দলের লড়াকু মানসিকতা এবং হামজা চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা স্বপ্ন দেখছেন—হয়তো একদিন সত্যিই লাল-সবুজের পতাকা উড়বে ফিফা বিশ্বকাপের আসরে।

0 Comments