ভেঙেই গেল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট: চরমোনাই পীরের দল এখন আলাদা


 

ভেঙেই গেল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট: চরমোনাই পীরের দল এখন আলাদা

স্বাধীন দেশ অনলাইন

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৩

দীর্ঘ টানাপোড়েন আর দরকষাকষির পর অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে পরিচিত চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হতে পারে।


জোট ভাঙার নেপথ্যে আসন ভাগাভাগি:

 * ৮০ আসনের দাবি: গত এক সপ্তাহ ধরে চলা দফায় দফায় বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করা হয়েছিল। জামায়াত প্রথমে ৪০টি এবং পরে ৪৫টি আসন ছাড়তে রাজি হলেও চরমোনাই পীরের দল তাদের দাবিতে অনড় থাকে।

 * এনসিপি ফ্যাক্টর: জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এনসিপিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি চরমোনাইর দল স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তাদের দাবি ছিল—১৪৩টি আসনে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, তাই অন্তত ৮০টি আসন তাদের প্রাপ্য।

 * ব্যর্থ মধ্যস্থতা: মাওলানা মামুনুল হক নিজে উদ্যোগী হয়ে চরমোনাই পীরের সাথে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জামায়াতের পক্ষে এই বিশাল সংখ্যক আসন ছাড়া সম্ভব ছিল না, কারণ তাতে অন্য শরিকদের সাথে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ছিল।


বর্তমান সমীকরণ ও ১০ দলীয় জোট:

১. নতুন জোট: চরমোনাইর দল বেরিয়ে গেলেও এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ অন্য ৯টি শরিক দল জামায়াতের সাথেই থাকছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হচ্ছে।

২. হাতপাখার স্বতন্ত্র লড়াই: ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন তারা জোটবদ্ধ নয় বরং এককভাবে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

৩. আসন বিন্যাস: জোটের বাকি ১০ দল এখন নতুন করে আসন বিন্যাসের কাজ করছে। আজ দুপুরের বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমসহ শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করবেন।


রাজনৈতিক প্রভাব:

নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে ইসলামী আন্দোলনের মতো একটি বড় সাংগঠনিক শক্তির জোট ত্যাগ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বলয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু আসনে ভোটের সমীকরণ এখন বদলে যেতে পারে।

Post a Comment

0 Comments