স্বাধীন দেশ অনলাইন
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৮
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের লড়াইয়ে রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতা এবং নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস ভোটার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা ও ব্যয়ের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে এক ভিন্নধর্মী আর্থিক অসমতা লক্ষ্য করা যায়।
১. রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর): ধনাঢ্য বনাম সাহায্যনির্ভর
এই আসনে লড়াই হচ্ছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা বনাম জামায়াতের শিক্ষাবিদ প্রার্থীর মধ্যে।
* মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন (বিএনপি): তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তিনি নিজের আয় থেকেই ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনী খরচ মেটাবেন।
* অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (জামায়াত): তাঁর সম্পদ মাত্র ৩৬ লাখ টাকা হলেও ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৩৭ লাখ টাকা। এই অর্থের সিংহভাগ আসবে ভাই ও আত্মীয়স্বজনের দান ও ধার থেকে।
২. রাজশাহী-২ (সদর): অভিজ্ঞতার সঙ্গে অর্থের সমন্বয়
* মিজানুর রহমান মিনু (বিএনপি): সাবেক এই মেয়রের সম্পদ আছে প্রায় ৯৬ লাখ ৬২ হাজার টাকার। তিনি নিজের ১০ লাখের সাথে আত্মীয়দের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান হিসেবে নিয়ে প্রচার চালাবেন।
* ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (জামায়াত): তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি নিজের ১০ লাখ এবং প্রাপ্ত ১৭ লাখ টাকা দানের অর্থে ভোটের মাঠ চষবেন।
৩. রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর): নিজস্ব তহবিলের প্রাধান্য
* শফিকুল হক মিলন (বিএনপি): তাঁর ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। নির্বাচনী ব্যয় ৩০ লাখ টাকা নিজের তহবিল থেকে এবং বাকিটা ধার ও দানের মাধ্যমে জোগাড় করবেন।
* আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত): ৪১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদধারী এই প্রার্থী নিজের ১০ লাখের পাশাপাশি দাননির্ভর ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন।
রাজশাহীর ৬টি আসনের আর্থিক তুলনামূলক সারণি (সংক্ষেপে)
| আসন | বিএনপি প্রার্থী | নিজস্ব অর্থ (সম্ভাব্য) | জামায়াত প্রার্থী | নিজস্ব অর্থ (সম্ভাব্য) |
| রাজশাহী-৪ | জিয়াউর রহমান | ১২ লাখ টাকা | ডা. আব্দুল বারী | ২৫ লাখ টাকা (পুরোটাই নিজের) |
| রাজশাহী-৫ | নজরুল ইসলাম | ৩৫ লাখ টাকা (পুরোটাই নিজের) | মনজুর রহমান | ৫ লাখ টাকা (বাকি ১৭ লাখ ধার ও দান) |
| রাজশাহী-৬ | আবু সাঈদ চাঁদ | ৪ লাখ টাকা (বাকি ১৭ লাখ ধার ও দান) | নাজমুল হক | ৫ লাখ টাকা (বাকি ২০ লাখ ধার ও দান) |
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ: ‘অসম প্রতিযোগিতা’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, যখন প্রার্থীরা নিজের আয়ের চেয়ে ধার ও দানের ওপর বেশি নির্ভরশীল হন, তখন নির্বাচনের পর দাতার কাছে দায়বদ্ধ থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি সংসদীয় রাজনীতিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করতে পারে।
পেশাজীবী ও বিশ্লেষকদের অভিমত:
* তৌফিক আহম্মেদ (সামাজিক বিশ্লেষক): "ভোট এখন শুধু ব্যালটের নয়, অর্থের শক্তির প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।"
* আনোয়ার হোসেন (সাবেক নির্বাচন পর্যবেক্ষক): "ব্যয়ের এই সীমা বাস্তবে কার্যকরের অভাব ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে।"
রাজশাহীর এই ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াতের মুখোমুখি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অর্থের প্রভাব না কি রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার জয় হবে—তা দেখার অপেক্ষায় জেলাবাসী।

0 Comments