দ্বিতীয় বিয়েতে সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় বহাল
স্বাধীন দেশ অনলাইনপ্র
কাশ : ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৫৩
কোনো ব্যক্তি তার প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না—মুসলিম পারিবারিক আইনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের মূল প্রেক্ষাপট:
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারায় বহুবিবাহের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটে দাবি করা হয়েছিল, এই বিধানটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত বছরের ২০ আগস্ট ওই রিট ও জারি করা রুল খারিজ করে দেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারার মূল দিকসমূহ:
১. অনুমতি বাধ্যতামূলক: প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এই অনুমতি ছাড়া বিয়েটি নিবন্ধিত হবে না।
২. আবেদনের প্রক্রিয়া: বিয়ের প্রয়োজনীয় কারণ এবং বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি আছে কি না, তা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট ফিসহ আবেদন করতে হবে।
৩. সালিশি কাউন্সিল গঠন: আবেদনের পর স্বামী ও বর্তমান স্ত্রীর মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে কাউন্সিল গঠিত হবে। তারা যদি প্রস্তাবিত বিয়েটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ মনে করে, তবেই অনুমতি দেবে।
৪. শাস্তির বিধান: অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এছাড়া বর্তমান স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেনমোহর তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
আদালত মনে করেন, পারিবারিক জীবন রক্ষা এবং স্ত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা প্রয়োজন। তবে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আইনজীবীদের মতে, এই রায় বহাল থাকার ফলে সমাজে যথেচ্ছ বহুবিবাহ রোধ হবে এবং বর্তমান স্ত্রীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

0 Comments