চবি শিক্ষক রোমানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের খতিয়ান: শিবির ট্যাগ ও মামলার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য


চবি শিক্ষক রোমানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের খতিয়ান: শিবির ট্যাগ ও মামলার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় সমর্থন এবং এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ইতিমধ্যে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন।

অভিযোগের মূলবিন্দু: শিক্ষার্থী সোহাগকে হেনস্তা

রোমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো ২০২২ সালে সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন সোহাগকে চবির চক্রাকার বাসের দাবিতে করা একটি সাধারণ মানববন্ধন থেকে আটক করেন রোমান। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা আটকে রেখে সোহাগকে জেরা করা হয় এবং পরবর্তীতে ‘শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ ভুয়া অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিন মাস জেল খাটার পর মুক্ত হন সোহাগ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের আরও যেসব অভিযোগ:

গত ২১ আগস্ট আইন বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে রোমানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ আনেন:

 * মাদকের আসর: নিজ বাসায় ছাত্রদের ডেকে মাদকের আসর বসানো এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সহকর্মী শিক্ষকদের নিয়ে অশ্রাব্য গালিগালাজ।

 * ছাত্রলীগকে মদত: সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি দিতে ছাত্রলীগকে ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ছাত্রদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।

 * রাজনৈতিক হয়রানি: ক্লাসে শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ‘জামায়াত-শিবির’ তকমা দিয়ে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং ভয়ভীতি দেখানো।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ:

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে:

 * বেতন বন্ধ: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাছলিম উদ্দীনের নেতৃত্বে গঠিত প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় হাসান মোহাম্মদ রোমানের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

 * চূড়ান্ত তদন্ত: বর্তমানে অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে দ্বিতীয় একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এই কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই রোমানের শিক্ষকতা জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবে বিতর্কিত অবস্থানের কারণেই মূলত শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছেন। দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক রোমানকে একাধিকবার ফোনে পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments