স্বাধীন দেশ অনলাইন
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯:২৯
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক নতুন জনমত জরিপে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।
জরিপের প্রধান ফলাফল:
জরিপ অনুযায়ী, ভোটারদের পছন্দের তালিকায় দেশের প্রধান দুই দল প্রায় সমানে-সমান অবস্থানে রয়েছে।
* বিএনপি: ৩৪.৭% ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করছেন। (সিদ্ধান্তহীন ভোটার বাদে যা ৪৩.২%)।
* জামায়াতে ইসলামী: ৩৩.৬% ভোটার জামায়াতকে সমর্থন করছেন। (সিদ্ধান্তহীন ভোটার বাদে যা ৪০.৮%)।
* ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি): ৭.১% ভোটারের সমর্থন পেয়েছে নতুন এই দলটি।
* ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৩.১% ভোটারের সমর্থন।
* অন্যান্য দল: ৪.৫% ভোটার।
* সিদ্ধান্তহীন ভোটার: ১৭% ভোটার এখনো কাকে ভোট দেবেন তা ঠিক করেননি।
ভোটারদের সমর্থনের কারণ ও ডেমোগ্রাফিক বিশ্লেষণ:
জরিপটি ভোটারদের পছন্দের পেছনে থাকা মনস্তাত্ত্বিক ও অভিজ্ঞতামূলক কারণগুলোও ব্যাখ্যা করেছে:
১. বিএনপি (অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা): দলটির সমর্থকদের মধ্যে ৭২.১% মনে করেন, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বর্তমানে দেশের জন্য জরুরি। ৩০-৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম ভোটারদের মধ্যে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলক শক্তিশালী।
২. জামায়াতে ইসলামী (সততা ওুণ প্রজন্ম): জামায়াত সমর্থকদের ৪৪.৮% দলটির ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ ভাবমূর্তি এবং ৪০.৭% ‘সততাকে’ প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ১৮-২৯ বছর বয়সী তরুণ ভোটার (৩৩.৬%) এবং উচ্চশিক্ষিতদের (৩৭.৪%) মধ্যে দলটির জোরালো সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।
৩. এনসিপি (জুলাই বিপ্লবের প্রভাব): এনসিপি সমর্থকদের ৩৬.৭% দলটিকে সমর্থন করছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে।
গেম চেঞ্জার কারা?
জরিপে অংশ নেওয়া ১৭ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটারকে নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ (৩০.১%) জানিয়েছে তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না।
জরিপ পদ্ধতি:
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের ২২,১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ২০২২ সালের জাতীয় আদমশুমারির ডাটা ব্যবহার করে জরিপটির বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইআইএলডি-র নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন মনে করেন, এই নির্বাচন হবে মূলত বিএনপির ‘অভিজ্ঞতা’ এবং জামায়াতের ‘সততার ইমেজের’ মধ্যে এক লড়াই।

0 Comments