যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর: ৭ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান

 স্বাধীন দেশ অনলাইন

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩:০৪

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতরের কঠোর বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও আদালতের নির্দেশে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি তরুণ। 'হাসান' (ছদ্মনাম) নামের এই যুবকই সম্ভবত প্রথম ইসরায়েলি পাসপোর্টধারী ফিলিস্তিনি, যাকে যুক্তরাজ্য শরণার্থী মর্যাদা দিল। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই:

 * আবেদনের কারণ: হাসান দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলে ফেরত গেলে তিনি চরম নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হবেন। ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত থাকা, মুসলিম পরিচয় এবং জাতিগতভাবে ফিলিস্তিনি হওয়া—ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে তিনি যুক্তি দেন।

 * রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: ২০২৪ সালের মার্চে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর হাসানকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হাসানকে আশ্রয় না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

 * দীর্ঘ অপেক্ষা: ২০১৯ সালে আবেদন করার পর প্রায় ৭ বছর হাসানকে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পড়াশোনা, কাজ করা বা এমনকি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়ের প্রভাব

জুডিশিয়াল রিভিউয়ের নথিতে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্য, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং অধিকার হরণের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। হাসানের আইনজীবী তাহের গুলামহুসেইন বলেন, "স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা একমত ছিলেন যে হাসান ঝুঁকিতে রয়েছেন, কিন্তু রাজনৈতিক চাপে তা অস্বীকার করার চেষ্টা হয়েছিল।"

এক নজরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক:

| বছর | ঘটনা |

| :--- | :--- |

| ২০১৯ | প্রথম রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন। |

| ২০২৪ (মার্চ) | স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রাথমিক স্বীকৃতি এবং জেমস ক্লেভারলির হস্তক্ষেপে তা বাতিল। |

| ২০২৫ (শেষভাগ) | আইনি লড়াই শেষে রাজনৈতিক আশ্রয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন। |

| ২০২৬ (জানুয়ারি) | দ্য গার্ডিয়ানে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা। |


এই রায়কে যুক্তরাজ্যের শরণার্থী আইন ও বিচারব্যবস্থার একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক চাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মানবাধিকার অগ্রাধিকার পায়।

Post a Comment

0 Comments